December 1, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

গাইবান্ধায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে প্রতারণা, আইনজীবীসহ আটক ২

গাইবান্ধায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে প্রতারণা, আইনজীবীসহ আটক ২

পীরগঞ্জে কসবা জেলে পল্লীতে হামলা ॥ আরো ৪ জন গ্রেফতার

আশপাশের গ্রামগুলোতে গ্রেফতার আতংক

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের পীরগঞ্জে কসবা জেলে পল্লীতে হামলা ॥ আরো ৪ জন গ্রেফতার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা জেলে পল্লীতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গত শনিবার রাতে পুলিশ আরো ৪ জন কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এনিয়ে এ পর্যন্ত ৬৪ জন কে গ্রেফতার করা হলো।
অন্যদিকে পীরগঞ্জে জেলে পল্লী কসবায় ধর্মান্ধ উগ্রবাদীদের হামলার ঘটনায় আশপাশের ৪/৫ টি গ্রামে গ্রেফতার আতংক বিরাজ করছে। গ্রামগুলোতে পুরুষ, তরুণ ও যুবকদের খুজেই পাওয়া যাচ্ছে না। নিজের বাড়ীঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। ফলে পরিবারগুলোতে রোজগার না থাকায় খাদ্য সংকটসহ অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। গতকাল রোববার ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে সাধারণ মানুষদের মাঝে আতংক দেখা গেছে। আশপাশের গ্রামগুলো পরিদর্শণে গিয়ে দেখা গেছে, নারী, গৃহবধূ, মহিলা ও শিশুদের মাঝেও আতংক বিরাজ করেছে। অকপটে তারা তাদের শংকা, আতংক আর খাদ্য সংকটের কথাও বলেছেন। অপরদিকে শুক্রবার খেদমতপুর গ্রমের শতাধিক নারী, গৃহবধূ দল বেঁধে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে বটেরহাটে আটক দেয়। এ সময় তারা সমস্বরে বলেন, স্বামীর সাথে হামাকও জ্যালোত নিয়া যাও। হামাক নিরাপত্তা দ্যাও, হামরাও বিচার চাই। নির্দুষী মানুষ বাড়ীত থাকপ্যার পারোছি না। এ সময় তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে আতংকিত গৃহবধূরা তাদের স্বামীর নামও বলেননি। খেদমতপুরের জেলেখা, মনোয়ারা, নুরজাহান বলেন, পুলিশ নিরপরাধীদেরকে গ্রেফতার করায় হামার স্বামীরা বাড়ীত থাকপ্যার পারোচে না। হামরা রাইতো আতংকে থাকি। কামাই, রোজগার না থাকায় ছোলপোলেরা না খায়া আছে। বড় রাজারামপুরের শরিফা বেগম বলেন, রাস্তাত থাকি পুলিশ মোর স্বামীসহ হামার গেরামের ৫ জনোক ধরি জ্যালোত পাটাইচে। হামলা মামলার ১ নং আসামী রাজারামপুরের আব্দুল ওয়াদুদ (৫৫)। তাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে তার স্ত্রী সাথী বেগম বলেন, যখন হেন্দুর বাড়ীত আগুন নাগে দ্যায়, তকন মোর স্বামী বাড়ীত আচিলো। পরে আগুন দ্যাকপার গেলে পুলিশ তাকে ঘাটাত (রাস্তা) থাকি তাক গেরেপতার করে। হামার গেরামোত কোন পুরুষ মানুষ নাই। নখারপাড়া খন্দকারপাড়ার মাহবুব হোসেনকে হামলার পরদিন সোমবার ভোরে বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মামলার ২৪ নং আসামী। তার স্ত্রী নাছরিন বেগম জানান, সোমবার ভোরে বাড়ীর গেট খুলে আমার স্বামী, দুই ভাতিজাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এক ভাতিজা সৈকত খন্দকার ডিগ্রির ছাত্র। আর একজন আরিফ খন্দকার এবারে এসএসসি পরীক্ষা দিবে। তারা ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথেই পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে। এটা কি অন্যায় নয়? আমরা কি নিরাপদে থাকতে পারবো না? ওই পাড়ায় ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীরা জানান, ঘটনাস্থলের পার্শ্বেই বটেরহাট। সপ্তাহের বুধ ও রোববার ওই হাট বসে। কিন্তু হিন্দু পল্লী মাঝিপাড়ায় গত রোববার (১৭ অক্টোবর) রাতে হামলার পর বুধবার বটেরহাট বসেনি। শুধু তাই নয়, গ্রেফতার আতংকের কারণে হাটটির অধিকাংশ দোকানপাট ঘটনার পর থেকেই বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও আশপাশের দ্বারিয়াপুর, চেরাগপুর, নখারপাড়া, খেদমতপুর, মহাজিদপুর, সাতগড়া গ্রামেও আতংক বিরাজ করছে। গ্রামগুলোতে পুরুষ মানুষ গ্রেফতারের ভয়ে রাতে নিজের বাড়ী ছেড়ে অন্যত্র থাকছেন।
গতকাল রোববার রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, যারা নিরপরাধী, তারা বাড়ীতে থাকবেন। আমরা ইতিমধ্যেই হামলাকারীদেরকে শনাক্ত করেছি। প্রকৃত অপরাধীদেরকেই গ্রেফতার করা হবে। গত ১৭ অক্টোবর রাতে পবিত্র কাবা ঘরের অবমাননাকর ছবি ফেসবুকের কমেন্টে পোস্ট দেয়ায় ধর্মান্ধ উগ্রবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা জেলে পল্লীতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।