December 7, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

পীরগঞ্জে 'বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন' ৩১ লক্ষ টাকা বিতারণ।

পীরগঞ্জে 'বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন' ৩১ লক্ষ টাকা বিতারণ।

পীরগঞ্জে ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’ ৩১ লক্ষ টাকা বিতারণ

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা মাঝিপাড়ায় সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’ এর পক্ষ থেকে ৩১ লক্ষ টাকা এবং বাসন কোসন বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১ টার দিকে এক আলোচনা সভার পর ওই ফাউন্ডেশন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৬টি পরিবারের মাঝে সহায়তা প্রদান করে।সর্বস্ব হারানো ক্ষতিগ্রস্ত ২৬টি পরিবারের ৫ টি পরিবারের কর্তা সরেষ চন্দ্র দাস, আমল চন্দ্র, অভায় পদ, নিখিল চন্দ্র, দেবেন্দ্র চন্দ্রকে নগদ ২ লক্ষ করে ১০ লক্ষ টাকা এবং ২১ টি পরিবারের কর্তা নরেশ চন্দ্র, ক্ষুধা চন্দ্র, মিঠু চন্দ্র, পুষ্প রাণী, ভুট্টু রাণী, অজয় চন্দ্র বাবু, শ্রীমতি সূর্য্য রাণী, ভবেশ চন্দ্র, শুভল চন্দ্র, শ্যামল চন্দ্র, সুবর্ন চন্দ্র, উপিন চন্দ্র, ননী গোলাপ, রমেন সরকার, মনোরঞ্জন চন্দ্র, সঞ্জয় চন্দ্র, অর্জুন দাস, প্রদীপ সরকার, স্বপন চন্দ্র, তপন চন্দ্র, সন্তোষ চন্দ্রকে নগদ ১ লক্ষ করে ২১ লক্ষ টাকা ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয় । পাশাপাশি রান্নার সামগ্রী হিসেবে হাঁড়ি, পাতিল, প্লেট, গ্লাস, জগও দেয়া হয়েছে।এ সময় ওই অনুষ্ঠানে রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিরোদা রানী রায়, কৃষক লীগ নেতা আতাউর রহমানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার জামাল উদ্দিন বলেন, ‘নিজ হাতেই শুরু হোক দিনবদলের গল্প’ স্লোগানের ধারক-বাহক সেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’। আমরা মানুষের সেবায় কাজ করি। সে লক্ষ্যে পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার পরিবারের ক্ষতিপূরণ করতে পাশে দাঁড়িয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যত দিন পর্যন্ত আর্থিক সক্ষমতা হবে না ততদিন তাদের পাশে থাকবে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।উল্লেখ্য, গত রোববার রাতে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের কসবা হিন্দু পল্লী মাঝিপাড়ার প্রশান্ত সরকারের ছেলে পরিতোষ সরকার ফেসবুকে ধর্মীয় উষ্কানিমুলক পোস্ট দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে রাত ১০ টার পর বিক্ষুব্ধ জনতা কসবা হিন্দু পল্লী মাঝিপাড়ায় বাড়ীঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাটের পর ২৫ টি বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় হিন্দুরা জীবনের ভয়ে বাড়ী ঘর ছেড়ে আশপাশের জঙ্গল, বাঁশঝাড় ও ধানক্ষেতে আশ্রয় নেয়। ওই পাড়ার জেলে পরিবারগুলো সর্বশান্ত হওয়ায় তাদেরকে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থা সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে।