August 4, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

বয়স্ক, বিধবা প্রতিবন্ধী ভাতা

বয়স্ক, বিধবা প্রতিবন্ধী ভাতা

পীরগঞ্জে ভাতা না পেয়ে উৎকন্ঠায় ভাতাভোগীরা

পীরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ
রংপুরের পীরগঞ্জে শত শত নারী, পুরুষ ও শিশু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচীর আওতায় বয়ষ্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা না পাওয়ায় আসছে ঈদে অসহায় পরিবারগুলো চরম উৎকন্ঠায় পড়েছে। করোনার এই চলমান দুঃসময়ে ভাতার টাকা হাতে না পেয়ে প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট ইউপির চেয়ারম্যান ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ধর্না দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যানরা ভাতা না পাওয়াদের নামের তালিকা করে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরাবরে পাঠিয়েছেন। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচীর আওতায় পীরগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় বয়ষ্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতায় প্রায় ৪০ হাজার অসহায় ব্যক্তি তালিকাভুক্ত রয়েছে। প্রতিমাসে বয়ষ্ক ও বিধবা ভাতা ৫’শ টাকা করে এবং প্রতিবন্ধী ভাতা ৭’শ ৫০ টাকা করে সরকার প্রদান করছে। অনেক সময় ওই টাকা ৩ মাস বা ৬ মাস পরপর উল্লেখিত ভাতাভোগীদেরকে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করে থাকে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে ওইসব ভাতা তালিকাভুক্তভোগীদের স্ব-স্ব মোবাইল ফোন নম্বরে খোলা ‘নগদ’ হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে। সে হিসেবে এবারে উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ভাতাভোগী এখনো অনেকেই টাকা পায়নি। অনেকের ভাতার টাকা অন্যের মোবাইল ফোনেও চলে গেছে বলে জানা গেছে। সুত্র আরও জানা, রংপুর জেলায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচীর অধীনে তালিকাভুক্ত বিধবা, বয়ষ্ক ও প্রতিবন্ধীরা মোবাইলে ‘নগদ’ হিসাবে টাকা পাচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিজনের নগদ হিসাবের ৪ সংখ্যার পিন নম্বর একই। ওই নম্বরটি অনেকে জেনে ফেলায় টাকা বের করে নেয়ায় প্রকৃত ভাতাভোগীরা টাকা নাও ফেরত পেতে পারে বলে সুত্রে জানা গেছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নে ভাতা না পাওয়া ৫৬ জনের তালিকা করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রেরন করা হয়েছে। চৈত্রকোল ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সবুজ বলেন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা তথ্য আপলোড করার সময় ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বর ভুল দেয়ায় অন্যের ফোনে টাকা চলে গেছে। যে কারণে আমার ইউনিয়নের ৫৬ জন টাকা পায়নি। উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নেরর চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ বলেন, আমরা ইউনিয়নে প্রায় ১’শ ভাতাভোগী এখনো টাকা না পাওয়ায় প্রতিদিন তারা আমার কাছে আসছে। আমি তাদের তথ্যাবলী তালিকাভুক্ত করে সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠাচ্ছি। এ ব্যাপারে মিঠিপুর ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত বিধবা ভাতা না পাওয়া কাশিমপুর গ্রামের মৃত. আব্দুর রহমানের স্ত্রী রাহেলা (৬৫) তার ভাতা মোবাইল নম্বরে নগদ হিসাবে ভাতার টাকা পাননি। এদিকে মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর মিয়াবাড়ী গ্রামের মৃত. আইয়ুব আলীর স্ত্রী মোছাঃ এরোমা বেগমও বিধবা ভাতার টাকা পাননি। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সমাজসেবা কার্যালয়ে কয়েকদিন ধরে ধরনা দিয়েও কোন সমাধান পাননি। এরোমা বেগম বলেন, মুখের আগে ঈদ আলছে। হামরা আগে ট্যাকা পাচিনো। এখন মোবাইলত দিয় হামরা ট্যাকা পাতিচি ন্যা। এখন ট্যাকাগুলা পালে মোর ঈদ করা হলো হায়। চেয়ারম্যান জানাচে তোমার ট্যাকা অন্য মানুষের মোবাইলে চলে গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা মোবাইল নম্বর ভুল করে দেয়ায় অন্যের মোবাইলে টাকা চলে গেছে। আমরা ইতিমধ্যেই অনেকের টাকা ফেরত এনেছি। আমার কাছে আসা অভিযোগগুলো সমাধানে চেষ্টা চালাচ্ছি।