May 14, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

পীরগঞ্জে স্বপ্ন বুনছে আবুল হাসেম মিয়া ও রেনু বেগম দম্পত্তির লতিফ এগ্রো ফার্ম

পীরগঞ্জে স্বপ্ন বুনছে আবুল হাসেম মিয়া ও রেনু বেগম দম্পত্তির লতিফ এগ্রো ফার্ম

পীরগঞ্জে স্বপ্ন বুনছে আবুল হাসেম মিয়া ও রেনু বেগম দম্পত্তির লতিফ এগ্রো ফার্ম

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নে সাদুল্লাহপুর নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ওয়াজেদ মিয়া সড়কের টিওরমারী গ্রামের মরা নদীর কোল ঘেষে স্বপ্ন বুনছে আবুল হাসেম মিয়া ও রেনু বেগম দম্পত্তির লতিফ এগ্রো ফার্ম।
বেকারত্ব দূর করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে অনেক মানুষ দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। অনেকে স্থাবর-অস্থাবর, আবার কেউ কেউ শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করেও বিদেশ যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে হাতেগোনা কিছু মানুষের স্বপ্ন পূরণ হলেও বেশির ভাগ মানুষ কষ্টের মধ্যে থেকে প্রবাস জীবনযাপন করছেন। কেউ কেউ নিঃস্ব হয়েও বাড়ি ফিরছেন। অথচ বিদেশে যে মেধা আর শ্রম দিতে হয় তা যদি দেশের মাটিতে দেয়া যায়, তাতেও যে সফলতা ধরা দিতে পারে তারই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হাঁস খামারি আবুল হাসেম মিয়া ও রেনু বেগম দম্পত্তির লতিফ এগ্রো ফার্ম। এই সফল খামারির বাড়ি পীরগঞ্জ উপজেলার টিওরমারী গ্রামে।

পীরগঞ্জে স্বপ্ন বুনছে আবুল হাসেম মিয়া ও রেনু বেগম দম্পত্তির লতিফ এগ্রো ফার্ম

হাঁসের খামার দেখতে গিয়ে কথা হয় রেণু বেগমের সাথে তিনি জানিয়েছেন “ লতিফ এগ্রো ফার্ম ” নামে খামারটি শুরু করা হয়েছিল ২০২০ সালে। শুরুতেই ১ হাজার ৮শ হাঁসের বাচ্চা দিয়ে শুরু করা হলেও এই খামারে এখন হাঁস রয়েছে ৩০০০ হাঁস। ৪ ধরনের হাঁস রয়েছে এই খামারে রুপালী, কাকলী, বেইজিং ও ব্লাকহোল জাতের। এই হাঁসগুলোর মধ্যে সাড়ে ৭০০ হাঁস নিয়মিত ডিম দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, খামারে সিংহভাগ ডিম দিয়ে বাচ্চা উৎপাদনকারী ইনকিউবেটরের মাধ্যমে বাচ্চা ফোঁটানো হচ্ছে চার মাস ধরে। সেই সাথে বিক্রি করা হচ্ছে হাঁসের বাচ্চা।
ভালো মানের তিন হাজার পিস ক্যাম্বেল হাঁসের বাচ্চা কিনে পালতে শুরু করেন। ডিম দেয়ার উপযোগী করে তুলতে পার হয় ছয় মাস। এরপর হাঁসগুলো ডিম দেয়া শুরু করে। তিন হাজার হাঁসের মধ্যে এখন ২ হাজার ৩০০ হাঁস প্রতিদিন ডিম দিচ্ছে। ডিম বিক্রিতেও কোনো সমস্যা নেই। বাচ্চা উৎপাদনকারী হ্যাচারি মালিকেরা ফার্ম থেকেই ডিম কিনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা করে। হাঁসের খাবার নিজেরাই বানাচ্ছেন। পরিচর্যার জন্য আটজন শ্রমিক রয়েছে। প্রথম ছয় মাস কষ্ট হলেও এখন সাফল্য ধরা দিয়েছে। আমরা মনে করছি আমাদের এ পরিকল্পনা ও উদ্যোগ সফল হয়েছে। সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা নতুন নতুন পরিকল্পনা করছি। হাঁসের খামার নিয়ে তাদের বড় স্বপ্ন রয়েছে। ২ সন্তানের জননী রেনু বেগম আরো জানিয়েছেন, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আমাদের খামার দেখতে আসেন এবং পরামর্শ চান। আমরা খুশি মনে তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিই। এতে নিজের যেমন ভালো লাগে, তেমনি যারা পরামর্শ নিতে আসেন তারাও হাঁস পালনের ইচ্ছা পোষণ করেন। তিনি জানান, তাদের খামার থেকে রুপালী ও কাকলীর বাচ্চা প্রতিটি ৯০ টাকা, বেইজিং ৮০ টাকা এবং ব্লাকহোল ৭০ টাকায় বিক্রী করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে তারা আগামীতে আরো ভালো কিছু করতে পারবেন। তবে বাড়ির পাশে ছেউটিয়া নদী থাকায় তাদের জন্য হাঁস পালন করা সহজ হচ্ছে। সকাল হলেই নদীতে হাঁস চরাতে পারেন। হাঁস পালনের জন্য জলাশয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নদী এলাকার মানুষ হাঁস পালন করলে লাভবান হতে পারবে। তাই নদী, খাল, বিল বা বড় কোনো জলাশয়ের কাছাকাছি বসবাস করা মানুষ ওই খামারিদের মতো উদ্যোগ নিতে পারেন। তাতে তারাও যেমন স্বাবলম্বী হবেন, দেশের অর্থনীতির ভীতও মজবুত হবে।