October 18, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

বাস সার্ভিস বিহীন উপজেলা খানসামা, অটোবাইক ও চার্জার ভ্যানই চলাচলে ভরসা

বাস সার্ভিস বিহীন উপজেলা খানসামা, অটোবাইক ও চার্জার ভ্যানই চলাচলে ভরসা

বাস সার্ভিস বিহীন উপজেলা খানসামা, অটোবাইক ও চার্জার ভ্যানই চলাচলে ভরসা

এস.এম.রকি,খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: আধুনিক সভ্যতার এ যুগে এখনও বাস সার্ভিস বিহীন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা। বাস চলাচল না করায় চার্জার ভ্যান ও অটোবাইকেই চলাচল করছে উপজেলার প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ।

অথচ এই উপজেলার প্রায় ২৫০ কিলো মিটার পাকা সড়ক আছে, আছে ব্রিজ-কালভার্টও। এরপরও যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে না দিনাজপুরের গুরুত্বপূর্ণ ও দূরের উপজেলা খানসামায়। রাস্তাগুলো দখল করে আছে অটো বাইক আর ব্যাটারি চালিত চার্জার ভ্যান। অবৈধ এসব যানবাহনে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা, ঘটছে প্রাণহানিও।

জানা যায়, জেলা সদর থেকে খানসামা উপজেলার সড়কপথে দূরত্ব ৪২ কিলোমিটার। আর এখান থেকে নীলফামারী জেলা সদরের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। পার্শ্ববর্তী উপজেলা সৈয়দপুরের দূরত্ব ২২ কিলোমিটার এবং বীরগঞ্জের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। উপজেলা সদর থেকে এসব স্থানে নির্মিত হয়েছে আধুনিক পাকা সড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়ক। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে খানসামা উপজেলায় বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী বাস চলাচল। এতে জনজীবনে সৃষ্টি হয়েছে ভোগান্তি কেননা জরুরী প্রয়োজনে জেলা সদর কিংবা পার্শ্ববর্তী জেলায় যেতে এ উপজেলার মানুষের প্রধান ভরসাই হল চার্জার ভ্যান-অটোবাইক। একারনে আদালতের কাজে যাওয়া আসা, ডাক্তার দেখানো আর শিক্ষার্থী-চাকুরীজীবীদের যাতায়াতে পড়তে হয় বিড়ম্বনায় হতে হয় লাঞ্চনার স্বীকার। যার ফলে জেলা সদর থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন অবস্থায় খানসামা উপজেলা।

আসাদুজ্জামান নামে এক যুবক বলেন, বাস চলাচল না করায় যেমন দূর্ভোগ পোহাতে হয় তেমন অন্য এলাকার মানুষের কাছে আমাদের হাসির পাত্র হতে হয়।

দিনাজপুর মোটর পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাহেদ রিয়াজ চৌধুরী পিম জানান, জেলার অভ্যন্তরীণ ১৫টি রুটে তাদের বাস চলাচল করে প্রায় তিন শতাধিক। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১২টিতেই চলাচল করে যাত্রীবাহী বাস। একমাত্র খানসামা উপজেলায় তাদের বাস চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হতে হয়েছে। তিনি বলেন, স্থানীয় অটোবাইক ও চার্জার ভ্যান সমিতির চাপেই তারা এ উপজেলায় বাস চালাতে পারছেন না। এজন্য প্রশাসনিক দূর্বলতাকেই দায়ী করেন তিনি। দ্রুত বাস সার্ভিস চালু করতে পুনরায় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

খানসামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, এ যুগে আমাদের উপজেলায় কোনো যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে না, এটা আমাদের জন্য লজ্জাকর। তিনি বলেন, গত দেড় বছর আগে এ উপজেলায় বিআরটিসির বাস চলাচলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল এবং চালুও হয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহ না চলতেই অবৈধ চাপে বন্ধ করতে বাধ্য হতে হয়েছে।

খানসামা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল না করলেও রয়েছে মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের শাখা। স্থানীয় শ্রমিক নেতা তালহা চৌধুরী এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তিনি জানান, রাস্তা সরু হওয়ার কারণে গত ১৫ বছর আগে এ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ হয়েছে। তবে তিনি জানান, বর্তমানে প্রধান রাস্তাগুলো প্রশস্ত ও উন্নত করার কাজ চলমান থাকায় বাস চলাচলের জন্য মোটর মালিক সমিতিকে জানানো হয়েছে এবং স্থানীয় সাংসদ আবুল হাসান মাহমুদ আলীর কাছে বাস চলাচলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল কিন্তু এটিও আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিষয়ে ইউএনও খানসামা আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, এ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চালু করতে হলে স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে আগ্রহী সকল উদ্দ্যেক্তাদেরকে প্রশাসনিকভাবে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে। তবে এ উপজেলা থেকে ঢাকাগামী দুটি বাস চালু আছে বলে জানান তিনি।