October 18, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

বীরগঞ্জে আলু চাষী ,ব্যবসায়ী ও আলু সংরক্ষণকারীগণ স্টোর ভাড়া নিয়ে চরম বিপাকে

বীরগঞ্জে আলু চাষী ,ব্যবসায়ী ও আলু সংরক্ষণকারীগণ স্টোর ভাড়া নিয়ে চরম বিপাকে

বীরগঞ্জে আলু চাষী ,ব্যবসায়ী ও আলু সংরক্ষণকারীগণ স্টোর ভাড়া নিয়ে চরম বিপাকে

খায়রুন নাহার বহ্নি, বীরগঞ্জ(দিনাজপুর)প্রতিনিধি ঃদিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা আলু সংরক্ষণের কোল্ড স্টোরেজগুলোর সম্মানিত মালিকগণ চলমান বৎসরে সারা বাংলাদেশের মধ্যে প্রতি বস্তার ভাড়া অনৈতিকভাবে সর্বোচ্চ নির্ধারণ করেছেন ফলে আলু চাষী,ব্যবসায়ী ও সংরক্ষণকারীগন পড়েছেন চরম বিপাকে। যার কারনে সারা বাংলাদেশের মধ্যে বীরগঞ্জ উপজেলা কোল্ড স্টোরেজে যারা আলু সংরক্ষণ করেছেন, তাদের শুধুমাত্র কোল্ড ষ্টোরেজ ভাড়ার কারণে কেজি প্রতি ১.৫০ টাকার দেড় টাকা) অধিক খরচ বেড়ে যাবে। শুধু তাই নয়, দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা বাংলাদেশের সর্বউত্তরে হওয়ায় এমনিতেই অন্য জেলাগুলোর চেয়ে ট্রান্সপোর্ট ভাড়া প্রতি কেজিতে ৫০ (পঞ্চাশ) পয়সা থেকে ৭৫ (পচাত্তর) পয়সা বেশি পরিশোধ করতে হয়। এই কারণে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীগণ অর্থাৎ আলু সংরক্ষণকারীগণ চরম বিপাকে পড়েছেন। জানাগেছে যে, ২০২১ সালে বাংলাদেশে আলুর রাজধানী নামক খ্যাত মুন্সীগঞ্জ জেলার স্টোরেজ মালিকগণ প্রতি বস্তার ভাড়া ১৮০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২১০ টাকা নির্ধারণ করেছেন । ২০২০ সালে বীরগঞ্জ উপজেলায় কোল্ড স্টোরেজগুলোতে ১৮০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৪০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া ছিল ২০২০ সালে নানান কারণে আলুর দাম নাগালের বাহিরে যাওয়ায় আলু চাষীগণ ২০২১ সালে বেশি আলু উৎপাদনের জন্য চাষাবাদ করেন। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে ২০২১ বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আলু সংরক্ষণ হয়েছে। আলু চাষীগণের ঐকান্তিক চেষ্টায় বেশি আলু উৎপাদন হওয়ায় কোনো কোনো কোল্ড স্টোরেজ মালিকগণের কাছে ব্যবসায় এক ধরণের অনৈতিক সুযোগ করে দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় কোল্ড স্টোরেজের মালিকগণ অতিরিক্ত ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালের চেয়ে ২০২১ সালে বিদ্যুত, লেবার, এমোনিয়া গ্যাস, ডিজেলের ও লুব্রিকন্টের কোনটারই দাম বৃদ্ধি পায় নাই।সংরক্ষণকালিন সময়, উপরোক্ত মালিকগণ সংরক্ষণকারীদের বলেছিলেন, আলু সংরক্ষণ করেন, গতবারের মতই ভাড়া নির্ধারণ করা হবে, তাদের মৌখিক প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীগণ আলু সংরক্ষণ করেছেন। মালিকগণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, প্রতি বস্তা ভাড়া গত ২০২০ সালের মতই হবে। আলু সংরক্ষণ হওয়ার পরে মালিকগণ তাদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে অতিরিক্ত ভাড়া দাবী করেছেন। ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নে স্থাপিত লক্ষি ও এ কাদের কোল্ড স্টোরেজ মালিক ২০২১ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে ঘোষণা করেছেন। উল্লেখ্য, উল্লেখিত স্টোরেজের মালিকের বাংলাদেশে কমপক্ষে ১৬টিরও বেশি কোল্ড স্টোরেজ আছে। যার অধিকাংশই মুন্সীনগঞ্জ জেলায়।
উল্লেখ্য যে, কোল্ড স্টোরেজ মালিকগণ আলু সংরক্ষণকারীদের ঋণ প্রদান করেন। এই ঋণের বিপরীতে তারা ১৮% থেকে ২২% সুদ আদায় করেন। উন্নয়নের সরকার ব্যাংক সুদের হার ৯% নির্ধারণ করেছে, সেখানে এই উচ্চহারে সুদ আদায় শুধু অনৈতিক এক ধরণের অপরাধ মানিসকতাও বটে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার-কৃষি বান্ধব সরকার। তাই কৃষি, কষক ও ভোক্তাদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে সারা বাংলাদেশের অন্যান্য জেলায় সাথে সমন্বয় করে ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়ে আলু চাষী,ব্যবসায়ী ও সংরক্ষণকারীগন মাননীয় মন্ত্রী কৃষি, মাননীয় সংসদ সদস্য দিনাজপুর-১, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার,উপজেলা কৃষি কর্মকতা, বীরগঞ্জকে স্বারকলিপির অনুলিপি প্রদান করেছেন। এব্যাপারে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদের ও কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ আবু রেজা মোঃ আসাদুরজ্জামানের সাথে সরাসরি কথা হলে তারা চাষীদের স্বারক লিপির অনুলিপি পেয়েছেন মর্মে স্বীকার করেন ।