November 29, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

মাদক-স্মার্ট ফোনকে লাল কার্ড

মাদক-স্মার্ট ফোনকে লাল কার্ড

মাদক-স্মার্ট ফোনকে লাল কার্ড

সুস্থ সমাজব্যবস্থাকে অস্থিরতা ও অশান্তির আগুনে ঠেলে দেয় যতগুলো সামাজিক ব্যাধি, তার মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে বাল্যবিয়ে, মাদক, ধর্ষণ ও স্মার্ট ফোন। সমাজের সাধারণ মানুষ যদি সম্মিলিতভাবে এসব ‘ব্যাধি’ প্রতিরোধে এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুর শহরের পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস রুমে তেমন একটি আশাজাগানিয়া দৃষ্টান্ত সামনে এনেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ’ এবং পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বাল্যবিয়ে, মাদক, ধর্ষণ ও স্মার্ট ফোনকে লাল কার্ড প্রদর্শন এবং নৈতিক, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষায় উন্নত চরিত্র গঠনের লক্ষ্যে শপথ করেছেন। ওই সময় শিক্ষার্থীদের একটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়। গাছের চারা হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের শপথ পাঠ করান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনদীপ ঘরাই।

এ সমাজঘাতী অভিশাপ থেকে তারা নিজে বাঁচার এবং অন্যদের বাঁচানোর শপথ নিয়েছে।পরে মতবিনিময় সভা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনদীপ ঘরাই। বিষেশ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হালিম শেখ, লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল, কার্যকরী সদস্য নাঈম নকিব ও শাহেদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

মতবিনিময় সভা ও শপথ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাল্যবিয়ের অভিশাপে অগণিত ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যায়। বিশেষত, মেয়েরা এর সবচেয়ে বড় শিকার হয়। প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ বাল্যবিয়ে।

অন্যদিকে, পরিবার থেকে সমাজ, তথা রাষ্ট্রব্যবস্থার শান্তিশৃঙ্খলাকে তছনছ করে দেয় মাদক। কোনো পরিবারে যদি একজন মাদকাসক্ত থাকে, তাহলে গোটা পরিবারের ওপর ধস নেমে আসে। আর ধর্ষণ যে একজন কিশোরী কিংবা তরুণীর অথবা নারীর জন্য কতটা মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠতে পারে, মাঝেমধ্যেই এর শিকার হওয়া মেয়েদের আত্মহত্যার খবর দেখে তা আন্দাজ করা যায়। এছাড়া স্কুল পড়া শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্ট ফোনও সামাজিক ব্যাধি বলে বিবেচনা করা যায়।

এসব ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের পাশে যেসব শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অভিভাবক দাঁড়িয়েছেন, তারাও দেশের একেকজন যথার্থ দায়িত্বশীল নাগরিক। তাদের মতো দেশের অন্যরাও যাতে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত হয়, তেমন সামাজিক সচেতনতা গড়ে ওঠা জরুরি। এ ধরনের সমাজ–সচেতনতামূলক উদ্যোগকে কীভাবে উৎসাহিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।

ইউএনও মনদীপ ঘরাই বলেন, সাদা চোখে লাল কার্ড দেখানোর এই খবর জাতীয় জীবনের ক্ষেত্রে খুবই ছোট একটি খবর। কিন্তু এই ছোট খবরটির মধ্যে এক বিশাল আশাজাগানিয়া বার্তা রয়ে গেছে, সেই বার্তা উপলব্ধির সময় এসেছে। সেই উপলব্ধিই সমাজে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারবে।