August 4, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত পীরগঞ্জে ১৭টি কবর প্রস্তুত! লাশের জন্য অপেক্ষায় স্বজনরা

সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত পীরগঞ্জে ১৭টি কবর প্রস্তুত! লাশের জন্য অপেক্ষায় স্বজনরা

সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত পীরগঞ্জে ১৭টি কবর প্রস্তুত! লাশের জন্য অপেক্ষায় স্বজনরা

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রাজশাহীর কাটাখালি থানার সামনে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৭টি লাশের অপেক্ষায় রয়েছে পীরগঞ্জের সাড়ে ৪ লাখ মানুষ। পরিবারেরর পক্ষ থেকে কবর খননও করা হয়েছে। এতো মানুষের মৃত্যু একসাথে দেখেনি পীরগঞ্জবাসী। এ যেন বিশাল বিপর্যয়! শনিবার নিহতদের স্মরণে পীরগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ড এলাকার ২ শতাধিক দোকানপাট ব্যবসায়ীরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বন্ধ রাখে। অপরদিকে লাশগুলোর গণজানাযার জন্য উপজেলা ইমারত নির্মান শ্রমিকদের ব্যানারে মাইকিং করা হয়েছে। লাশ এলে শনিবার রাত ১০টার দিকে পীরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জানাযা হবে। জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে পীরগঞ্জ থেকে রাজশাহীতে পিকনিকের উদ্দেশ্যে হায়েস-মাইক্রোবাস নিয়ে ৬ পরিবারের (চালকসহ) ১৮ জন যায়। বেলা ২টার দিকে রাজশাহীর কাটাখালি থানার সামেন হায়েসটির সাথে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে ১১ জন সহ ১৭ জন নিহত হন। নিহতরা হলেন,দ্বা‌ড়িকাপাড়া গ্রা‌মের মৃত, আফসার আলীর ছেলে মোক‌লেছার রহমান (৪০) তারস্ত্রী পার‌ভিন বেগম (৩৫), রাজারামপু‌র গ্রামে বসবাসকারী হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী সালাউদ্দীন (৪২) তারস্ত্রী সামছুন্নাহার (৩২) তা‌দের দুই সন্তান সা‌জিদ (৯) ও আ‌ফিয়া খাতুন সাফা (৩) এবং শ্যা‌লিকা কামরুন্নাহার বেগম (৩৮) একই ইউ‌পির রড়মহ‌জিদপুর গ্রা‌মের মৃত, জোনাব আলীর ছে‌লে ফুল মিয়া (৩৫) স্ত্রী নাজমা বেগম (৩০) তা‌দের ৩ সন্তান ফয়সাল (১৩),সুমাইয়া (৬) ও সা‌বিহা (৩), পীরগঞ্জ পৌরসভাস্থ প্রজাপাড়া গ্রা‌মের মৃত, ছামসুল ইসলা‌মের ছে‌লে তাজুল ক‌রিম ভুট্টু (৫০) তারস্ত্রী মুক্তা বেগম (৪২) তা‌দের একমাত্র ছে‌লে ইয়া‌মিম (১৩)এবং মি‌ঠিপুর ইউ‌পির দুরা‌মি‌ঠিপুর গ্রা‌মের মজিবর রহমা‌নের ছে‌লে সাইদুল ইসলাম (৪৫) অ‌গ্নিদগ্ধ হ‌য়ে মারাযায়। মোকলেছার ররহমানের কলেজ পড়–য়া ছেলে পাভেল মিয়া (১৮) এখনো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। অপরদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য উল্লেখিত গ্রামগুলোতে শোকের মাতম চলছে। লাশের অপেক্ষায় রয়েছেন পীরগঞ্জের সাড়ে ৪ লাখ মানুষ। একসাথে এতো মানুষের মৃত্যু দেখেনি পীরগঞ্জবাসী। লাশগুলো কবরস্থ করতে মহজিদপুরে ফুল মিয়ার পরিবারের সদস্যদের জন্য ৫ টি কবর, পীরগঞ্জ কেন্দ্রীয় কবরস্থানে মেকার ভুট্টুর পরিবারের জন্য ৩টি, রাঙ্গামাটিতে ১টি, রাজারামপুরে ৪টি, দুরামিঠিপুরে ১টি কবরসহ ১৭টি কবর খনন করে রাখা হয়েছে। এ দিকে রাজশাহী থেকে লাশগুলো আসতে দেরী হওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে, ৬টি লাশের পরিচয় পাওয়া যায়। আর ১১ টি লাশে পুড়ে যাওয়ায় বিকৃত হয়। ফলে লাশের পরিচয় নিশ্চিত হতে ডিএনএ টেষ্টের প্রস্তুতি নেয় রাজশাহীর কাটাখালি থানা ও রাজশাহীর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যে কারণে লাশ আসতে অনেক দেরি হয়। এ ব্যাপারে রাজশাহী মেট্রো পলিটন পুলিশের ডিআইজি আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, লাশগুলোর স্বজনরা এসে লাশের পুড়ে যাওয়া কাপড়, হাতের জমজ আংগুল এবং লাশের শরীরের আকৃতি দেখে পরিচয় নিশ্চিত কররায় ডিএনএ টেষ্ট করা হয়নি। তাই দ্রুতই লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে রাজশাহী থেকে ট্রাকযোগে লাশ গুলো বাক্সে করে পীরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে বলে নিহতদের পরিবারের স্বজনরা জানান।