December 8, 2021

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

৩য় শ্রেণির ছাত্র বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলার সঠিক তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করে ঝিনাইদহে সংবাদ সম্মেলন

৩য় শ্রেণির ছাত্র বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলার সঠিক তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করে ঝিনাইদহে সংবাদ সম্মেলন

৩য় শ্রেণির ছাত্র বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলার সঠিক তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করে ঝিনাইদহে সংবাদ সম্মেলন

ঝিনাইদহ-
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঝিনাইদহ পৌর এলাকার মুরারীদহ গ্রামের ৩য় শ্রেণির ছাত্র বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলার সঠিক তদন্ত ও ন্যায্য এবং দ্রুত বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহত বিল্লালের পরিবার ও গ্রামের লোকজন। শনিবার সকাল ১১ টায় ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিল্লাল হোসেনের বাবার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত বিল্লাল হোসেনের মামা আব্দুল্লাহ। তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের ৪ তারিখ শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে মামলার আসামি মিজানুর রহমানের কলার ক্ষেতে বিল্লাল হোসেনের লাশ দেখতে পায় গ্রামের লোকজন। সুরতহাল তদন্তে লাশের শরীরে বিভিন্ন আঘাত রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে নিহতের বাবা শহিদুল ইসলামকে থানায় ডেকে এসআই প্রবীবের লেখা একটি এজাহারে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। লেখা পড়া না জানা শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষর করে দেন। এজাহারে মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ সহ ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত নামা আসামি করে একটি মামলা রেকর্ড করেন তৎকালীন ওসি এমদাদুল হক। মামলা নং ৬/২০১৯। তদন্তকর্মকর্তা নিযুক্ত হোন এসআই প্রবীর। মামলা রেকর্ডের পর স্থানীয় রাজনৈতিক লোকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এসআই প্রবীর নিহতের বড় ভাই হযরত আলী ও অন্যান্য চাচাতো ভাইদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে শহিদুল ইসলাম পুলিশ সুপারের দারস্ত হলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে। হযরত আলী মুক্ত হয়ে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার সারা শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। হযরত আলী পরিবারের লোকজনের কাছে বলে, এসআই প্রবীর চোখে কালো কাপড় বেধে ও মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বিল্লাল হোসেনকে হযরত আলী হত্যা করেছে বলে স্বীকার করতে বলে। স্বীকার না করায় তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। কয়েকমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও মামলার আর কোন আসামি গ্রেফতার হয়না। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলা অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করতে থাকেন। বাধ্য হয়ে নিহত বিল্লালের মা ঝিনাইদহ আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করেন আরও কয়েকজন আসামির নাম উল্লেখ করে। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ তারিখে বিজ্ঞ আদালত এই মামলার তদন্তভার পিবিআইকে প্রদান করেন।বর্তমানে পিবিআইয়ের ওসি আঃ রব নিজেই তদন্ত করছেন। কিন্তু প্রায় ২ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও মামলার কোন অগ্রগতি দেখাতে পারেন নি। আসামিরা সবাই এলাকায় বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, আসামিরা বাইরে এসে প্রভাবখাটিয়ে উলটো আমাদের সমাজে এক ঘরে করে রেখেছে। মাঠে চাষাবাদ করতে দিচ্ছে না। এখন আমাদের পুরো পরিবারকে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা এই ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার,ডিআইজি, ও আইজিপি স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সঠিক তদন্ত দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনে নিহত বিল্লালের পিতা শহিদুল ইসলাম,মা রাজিয়া খাতুন,মামা আব্দুল্লাহ,বড় ভাই হযরত আলী সহ গ্রামের ১০-১২জন উপস্থিত ছিলেন। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত বিল্লাল হোসেনের মা ও বাবা। এছাড়া প্রেসক্লাবের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।