January 21, 2022

Jagobahe24.com

সত্যের সাথে আপোসহীন

৪৮ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: যেভাবে ধরা পড়ল সেই ইকবাল

৪৮ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: যেভাবে ধরা পড়ল সেই ইকবাল

৪৮ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: যেভাবে ধরা পড়ল সেই ইকবাল

কুমিল্লা নগরীর নানুয়াদিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপের ঘটনায় জড়িত ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে ইকবাল।
যেভাবে ধরা পড়ল ইকবাল হোসেন
কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্য মতে, নোয়াখালীর একটি কলেজের তিন বন্ধু গত ২০ অক্টোবর কক্সবাজারের কলাতলী সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা হালকা-পাতলা এক লোককে উদভ্রান্তের মতো তাদের সামনে দিয়ে বারবার ঘুরতে দেখেন। পরদিন আবারো সৈকতে গিয়ে ঐ ব্যক্তিকে দেখেন। পরে তারা ঐ ব্যক্তিকে পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে ঐ ব্যক্তির চেহারা মিলে যাওয়ায় তারা নোয়াখালীর এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মোবাইলে বিষয়টি জানান। পরে নোয়াখালীর এসপির মাধ্যমে কুমিল্লার এসপি বিষয়টি জানতে পারেন।

জানতে চাইলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আমাকে জানান- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে তাকে ফোন করে বলা হয়েছে ইকবালের মতো একজনকে দেখা যাচ্ছে। যারা ফোন করেছিলেন পুলিশ ঘটনাস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত তাদের আমরা নজরদারিতে রাখতে বলি। পরে কক্সবাজার জেলার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইকবালকে আটক করে।

তিনি আরো বলেন, সমুদ্র সৈকত থেকে যে ছেলেরা খবরটি দিয়েছিল তাদের সঙ্গে আমি বারবার কথা বলেছি। ইকবালকে চোখে চোখে রাখতে বলেছি। আমি ওদের (তিন বন্ধু) কাছে জানতে চেয়েছিলাম- ইকবাল কি চায়? ওরা জানালো- খেতে চায়। তখন ওদের বলেছি- খাওয়ান, যা চায় তাই দেন, পুলিশ না পৌঁছানো পর্যন্ত আটকে রাখেন। সম্ভব হলে ইকবালে ছবি ও ভিডিও পাঠাতে বলি। ওরা ছবি ও ভিডিও পাঠালে সেই ছবি ও ভিডিও ইকবালের পরিবারের সদস্যদের দেখানো হয়। তারা নিশ্চিত করেন ছবির ব্যক্তিই ইকবাল হোসেন। এরপর কক্সবাজার পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে ফোর্স পাঠানো হয়। ধরা পড়ে ইকবাল।

এসপি ফারুক বলেন, ইকবাল কোনো মোবাইল ব্যবহার করেন না। তাকে শনাক্ত করতে পুরোপুরি ম্যানুয়াল সূত্রের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। ছবিই ছিল ভরসা। রাতেই কুমিল্লা থেকে একটি বিশেষ টিম পাঠিয়ে ইকবালকে শুক্রবার কুমিল্লা নিয়ে আসা হয়। এভাবেই ইকবালকে গ্রেফতারের মিশন শেষ হয়।