May 12, 2021

Jagobahe24.com news portal

Real time news update

কাগজে কলমে খোলা,সরেজমিনে দেখা গেল ঝুলছে তালা!

কাগজে কলমে খোলা,সরেজমিনে দেখা গেল ঝুলছে তালা!

কাগজে কলমে খোলা,সরেজমিনে দেখা গেল ঝুলছে তালা!

ডিমলায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রর বেহাল দশা

ক্রাইম রিপোর্টার নীলফামারী॥কাগজে-কলমে সপ্তাহের সাাতদিনের ২৪ ঘন্টা খোলা দেখানো হয়।কিন্তু বাস্তবে সপ্তাহের দু-একদিন খোলা পাওয়া যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি।তাও আবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা নয়তো দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে।বাকিটা সময় তালা ঝুলতে দেখা যায়।ইউনিয়ন কেন্দ্রটির পরিদর্শিকা(এফডব্লিউভি)রিনা বেগমের স্বেচ্ছাচারিতায় প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নটির ৪৫ হাজারেরও অধিক বাসিন্দা।
এতে করে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবুও এত অনিয়মের অজানা কারনে এখনো সেই ইউনিয়ন কেন্দ্র পরিদর্শিকা রয়েছেন বহাল তবিয়তেই!
এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বুধবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সরেজমিন নাউতারা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তালা ঝুলছে। সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা রুবি বেগম বললেন,রিনা ম্যাডাম(পরিদর্শিকা রিনা বেগম)দুপুর ১২টার পরে মাঝে মধ্যে আসলেও আজকে সাড়ে ১২টা বেজে গেলেও এখনও আসেননি!
সেবা নিতে আসা সালমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, দুপুর গড়িয়ে গেল। ম্যাডাম যে কখন আসবে জানি না। পার্শ্ববর্তী আমিনার রহমান বলেন, সপ্তাহে দু-একদিন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি খোলা হলেও দুপুরের আগে রিনা ম্যাডাম আসেন না। আসার এক ঘণ্টা পর আবার চলে যান। ম্যাডাম না আসার কারণে পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে অন্য কেউ থাকে না।এখানে সরকারি অনেক ওষুধ থাকলেও অনেক সময় ওষুধ নেই বলে অনেককে খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়া হয়!
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বসবাসের জন্য সরকারিভাবে কোয়ার্টার বরাদ্দ থাকলেও সেখানে থাকেন না নাউতারা ইউনিয়নে পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা রিনা বেগম।তিনি পার্শ্ববর্তী ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সংলগ্নে বাসা ভাড়া নিয়ে প্রাইভেট চেম্বার খুলে সেখানে অর্থের বিনিময়ে রোগী দেখেন।
এসময় চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি নারী অভিযোগ করে বলেন, পরিদর্শিকা রিনা ম্যাডাম গর্ভবতী চেকআপের সময় ৫০০ টাকা, ডেলিভারির সময় ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা এবং গর্ভবতী নারীদের কার্ড প্রদানের সময় ২০০ টাকা করে নেন।
তার বদ মেজাজ ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে তার কর্মস্থলে আয়া-পিয়ন সহ অন্যান্য স্টাফরা থাকতে চান না।এতে করে বর্তমান সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবার কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে পরিদর্শিকা রিনার কারনে।তবে আশ্চর্য জনক ব্যাপার হলেও সত্য, এত অনিয়মের পরও ওই ইউনিয়ন কেন্দ্রের পরিদর্শিকা সরকারি বেতন-ভাতা সহ সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধাই ভোগ করছেন।
এ ব্যাপারে নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত এলাকাবাসী প্রায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির পরিদর্শিকা রিনার নিয়মিত কেন্দ্রে না আসা সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করায় আমি তাকে(পরিদর্শিকাকে)সতর্ক করেছিলাম।তিনি পরে কিছুদিন নিয়মিত কেন্দ্রে আসলেও আবারও পুর্বের ন্যায় নিজের খেয়াল খুশিমতো মন চাইলে কেন্দ্রে আসেন মন চাইলে চলে যান।কোনো কোনো দিন আবার আসেনি-না তাই কেন্দ্রটি সেদিন বন্ধ থাকে।
রিনার পুর্বের কর্মস্থলের সভাপতি ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, তিন বছর আগে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে রিনা বেগমকে ঝুনাগাছ চাপানি থেকে দিনাজপুর জেলার ঘোরাঘাট উপজেলার পালসা ইউনিয়নে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আবারও পার্শ্ববর্তী নাউতারা ইউনিয়নে বদলি নিয়ে আসেন।
চাপানি ইউনিয়নে তার চেম্বার রয়েছে।সেখানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তিনি মিনি ক্লিনিক খুলে সকল ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদানের নামে প্রতারনা করে আসছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাউতারা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রিনা বেগম এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন।কেউ আমাকে নষ্ট নারী বললে কি আমি নষ্ট হয়ে গেলাম।আমার কেন্দ্রে কোনো আয়া-পিয়ন না থাকায় আপনারা(সাংবাদিকরা)বুধবার যখন কেন্দ্রে এসেছিলেন তখন আমি কেন্দ্রে তালা দিয়ে কাগজ ফটোকপি করতে গিয়েছিলাম।পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হতে ফটোকপির দোকান সামান্য দুরত্বের পরও কয়েক ঘন্টা সময় লাগলো কেনো এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,তিন ঘন্টাও লাগতে পারে আবার চার ঘন্টাও লাগতে পারে!এসব আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত।

ডিমলা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসীন আকন্দ বলেন, বিষয়টি আমি বুধবার জেনেছি।এর আগেতো আমাকে কেউ জানায়নি।কেন্দ্রে সভাপতি লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নিব।কেউ লিখিত অভিযোগ না করলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অনিয়মের ব্যাপারে আপনার দায় এড়ানোর সুযোগ রয়েছে কিনা এবং আপনি সে অনিয়মকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,ডিডি স্যার সহ আমি সরেজমিনে ওই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে কমিটির লোকজন সহ আশ-পাশের লোকদের কাছে সমস্যার কথা গুলো শুনবো।আমি আগামী সপ্তাহে অফিসে যাব আপনি অফিসে আসিয়েন তারপর রিপোর্ট করিয়েন!

নীলফামারীর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক শাহাজাহান বলেন, নাউতারা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে তালা ঝুলছে বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।